সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার ডুবাইল জলমহাল জবরদখলের চেষ্টা, মাছ লুট, নৌকা ভাঙচুর, ইজারাদার ও পাহারাদারকে হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলার জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের আয়োজনে সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়াস্থ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য মালেক সিকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সদস্য জহিরুল হক হীরাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১ জুলাই দেশের পটপরিবর্তনের পর ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম (বিএসসি), সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহতাব, মাহবুব আলম হাদিস, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান মজুমদার, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিলন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম মেম্বার, আশিক খান, কামরুল হাসান চৌধুরী, হুমায়ন, পলাশ মিয়া, কালাম মিয়া, রয়েল মিয়া, হিরন খান, বাপ্পু মিয়া, রবিন মিয়া, আলম মিয়া, কামাল, ছদ্দু মিয়া, মাহাবুব, ধন মিয়া, মিলন মিয়া, সোহান মিয়াসহ ২০ থেকে ২৫ জন নুরুল ইসলাম (বিএসসি) ও সালাউদ্দিন মাহতাবের নেতৃত্বে দুটি নৌযান নিয়ে অনধিকারভাবে জলমহালে প্রবেশ করে মহড়া দেয়। এ সময় তারা জলমহালের নৌকা ভাঙচুর, মাছ লুট এবং পাহারাদার ও ইজারাদারকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
এ ঘটনায় জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বৈধ সদস্য মালেক সিকদার অভিযুক্তদের হুমকির মুখে গ্রাম ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন নামোল্লেখিত ব্যক্তিরা রামদা, ছুরি, লোহার রড ও বিভিন্ন ধরনের কারেন্ট জালসহ তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে জলমহালে অনধিকার প্রবেশ করে। জলমহালের পাহারাদার ও সাক্ষীরা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা গালাগাল শুরু করে। পাহারাদার মোজাফফর হক প্রতিবাদ করলে ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং নৌকা থেকে পানিতে ফেলে দেয়। পাহারাদারদের চিৎকার শুনে অভিযোগকারী মালেক সিকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, হামলাকারীরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। লুট হওয়া মাছ ও নৌকার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য মালেক সিকদার গত ১৯ জুলাই বাদী হয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
তিনি আরও জানান, গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে সমিতির নামে লিজকৃত ডুবাইল বিলের বার্ষিক ৬২ লাখ টাকা খাজনা পরিশোধের রশিদ নেওয়ার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের ডেপুটি কালেক্টর অফিসে যান। খাজনা পরিশোধ করে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুজ জহুর সেতুর কাছে পৌঁছালে হামলাকারীদের মধ্যে কামরুল হাসান চৌধুরী, আশিক খান, পলাশ, মিলনসহ অন্যরা ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল খালি স্ট্যাম্প বের করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক তাতে স্বাক্ষর নেয়। ভবিষ্যতে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। তিনি জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নামোল্লেখিত ব্যক্তিরা জলমহালে প্রবেশ করে জোরপূর্বক প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মালেক সিকদার বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি নামোল্লেখিত ব্যক্তিদের আসামি করে ধর্মপাশা থানায় মামলা (মামলা নং-০৩) দায়ের করেন।
তিনি বলেন, জলমহালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার আবেদন জানানো হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীরা তাদের পেশা থেকে বঞ্চিত হবে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্যজীবীরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জলমহাল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম (বিএসসি)-এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন। তিনি বলেন, “এই চক্রটি দলের এবং আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করেছে।