গাজী সোহেল :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। ২৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পান্থপথ এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, রাসেল আহমেদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কোরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব আরোও জানান, পিরোজপুর ইউনিয়ন ও আশপাশে গড়ে ওঠা নতুন শিল্পকারখানা, ড্রেজিং এবং আবাসন প্রকল্পে আধিপত্য বিস্তারই ছিল এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য। ইট-বালু সরবরাহ, স্ক্র্যাপ বা ঝুট ব্যবসা এবং নির্মাণকাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকায় প্রভাব প্রতিষ্ঠায় বাহিনীটি প্রকাশ্যে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, টেঁটা ও হকিস্টিক নিয়ে মহড়া দিত বলে জানিয়েছে র্যাব। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে প্রকাশ্যে গুলি বিনিময়, টেঁটাবিদ্ধ করে আহত করা এবং বাড়িঘরে হামলার একাধিক ঘটনাও ঘটেছে। মাদক বা সন্ত্রাস সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগও রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
গ্রেপ্তারের পর রাসেল আহমেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সোনারগাঁওয়ের কোরবানপুরে তার বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি গোডাউন থেকে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শটগান, চার রাউন্ড গুলি ও ১৪টি টেঁটা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার রাসেল আহমেদের বাবার নাম মৃত সাফাতুল্লা। তার বাড়ি সোনারগাঁও থানার পিরোজপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য তাকে সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।