রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের সাখালিন দ্বীপ থেকে ইমাই ইউকি নামে এক জাপানি সাংবাদিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা-সংক্রান্ত তথ্য জাপানের গোয়েন্দা সংস্থার জন্য সংগ্রহের সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানায়, দেশ ছাড়ার প্রস্তুতিকালে সাখালিনের প্রধান শহর ইউঝনো-সাখালিনস্ক থেকে ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জাপানের হোক্কাইডো শিমবুন সংবাদপত্রে কর্মরত।
গ্রেপ্তারের পর তাকে বিমানে করে মস্কোয় নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে প্রায় দুই মাস তাকে আটক রাখার অনুমতি দিয়েছেন মস্কোর একটি আদালত।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী কয়েকজন কর্মকর্তা একটি হোটেলকক্ষে ওই সাংবাদিককে হাতকড়া পরাচ্ছেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওতে তাকে এফএসবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিমানে উঠতে এবং মস্কোর আদালতে আসামিদের জন্য নির্ধারিত খাঁচার মতো কাঠামোর ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে, মস্কোয় জাপানের দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাংবাদিককে আটকের খবর যাচাইয়ের চেষ্টা করছে জাপান সরকার। দেশটির সংবাদ সংস্থা কিয়োদো এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধের প্রেক্ষাপটে এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। দ্বীপপুঞ্জটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপের মালিকানা দাবি করে জাপান। দেশটি এগুলোকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ নামে অভিহিত করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি। দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধকে চুক্তি না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দেশটিতে একাধিক বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সাংবাদিক ইভান গারশকোভিচ। ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর রাশিয়ার আদালত তাকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বন্দিবিনিময়ের অংশ হিসেবে তিনি মুক্তি পান।
সূত্র: আলজাজিরা ও এএফপি