সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত যৌথ অভিযানের পর এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে সৌদির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আবাসন, শ্রম ও সীমান্তসংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক।
বর্তমানে ৩৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি নারী রয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের দূতাবাসে পাঠানো হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাশাপাশি তাঁদের আশ্রয়দাতা, নিয়োগকর্তা এবং যাতায়াতে সহায়তাকারীদেরও আওতায় আনা হচ্ছে। এ ধরনের সহায়তার অভিযোগে ইতোমধ্যে ২১ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের আশ্রয়, কাজ বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা দিলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির গাড়ি বা বাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
এদিকে, এ ধরনের অনিয়মের তথ্য জানাতে মক্কা ও রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
সূত্র: গালফ নিউজ