October 13, 2026, 12:10 am

অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির, ঠিকাদারদের দিতে হবে ৩ বছরের ওয়ারেন্টি

অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে উন্নয়নকাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কয়েকটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ করছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, বিগত সরকারের আমলে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল বলে কমিটির সদস্যরা মনে করেন। এসব প্রকল্প বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রাস্তাঘাটসহ সব ধরনের উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তিন বছর সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, এ ধরনের নির্বাচন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি প্রয়োজন। কমিটির মতে, বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এ কারণে কিছুটা সময় দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের প্রথম দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের সুপারিশ

বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মশার উপদ্রব কম থাকলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার বেশি।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণে গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদারের সুপারিশ করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের কথাও বলা হয়।

কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মো. রফিকুল ইসলাম খান।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা