October 14, 2026, 8:21 am

মামলা দিয়ে সস্ত্রীক বড় ভাইকে বাড়ি ছাড়া করলেন সাবেক সিবিএ নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি : পারিবারিক বিরোধের জেরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সস্ত্রীক বড় ভাইকে মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে মো. ফজলুল হক নামে এক সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক।

অন্যদিকে বিবাদী মো. দৌলত জামান ওরফে দুদু মেম্বার কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের সাবেক ৩ নম্বর ও বর্তমান ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘ ২৫ বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন সজ্জন ব্যক্তি। প্রবীণ এই সমাজসেবক বর্তমানে তিনবার স্ট্রোকের পর অসুস্থ জীবনযাপন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ না থাকলেও হয়রানিমূলক মামলা করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মামলার ভয়ে সরিষাবাড়ী পৌরসভার তার বড় মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন তিনি।

মামলায় বাড়িঘর, জমিজমা, ফসল ও গাছপালা নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো অসত্য বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। একইভাবে মামলায় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি তাঁদের।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে জানা যায়,  দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলার চাপ ও হয়রানির কারণে বড় ভাই নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই কারণে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সস্ত্রীক বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের সুযোগ থাকলেও তা না করে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করেছেন ওই নেতা।

গুয়াখড়া গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন ওরফে জালাল দোকানদার বলেন, দৌলত জামান ওরফে দুদু মেম্বার একজন সজ্জন, মানবিক ও পরোপকারী মানুষ। তিনি টানা ২৫ বছর চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এই প্রবীণ সমাজসেবকের বিরুদ্ধে এমন মামলা ও হয়রানির ঘটনায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমানে স্ট্রোক ও বার্ধক্যজনিত কারণে মেম্বার অসুস্থ। ঠিকভাবে কথাও বলতে পারেন না। এমন লোকের বিরুদ্ধে মামলা খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে দৌলত জামান দুদু মেম্বার বলেন, ফজলুল হক আমার ছোট ভাই। দীর্ঘদিন ঢাকায় চাকরি করার পর সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা সারকারখানায় ট্রান্সফার হয়ে আসেন। আসার পর থেকেই পরিবারের সকলের সাথে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা শুরু করে সে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই আমাদের অবগত না করে হযরত আলী নামে এক দুষ্কৃতকারীকে ওয়ারিশভুক্ত বসতভিটার সাড়ে ৬ শতাংশ জমি লিখে দেন এবং ফজলুল হক ও তার স্ত্রী-ছেলে এবং চাচাতো ভাই আফজাল হোসেন স্বাক্ষী হয়ে হযরত আলীকে বাদী করে গত ২৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‘ক’ অঞ্চল আদালতে দণ্ডবিধি ১০৭ ও ১১৭(৩) ধারায় একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৯০/২০২৬ (ক)। মামলায় আমাকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও আসামি করা হয় আমার স্ত্রী, মেয়ে এবং স্থানীয় কৃষক সুরুজ্জামান ও স্বপন মিয়াকে। পরবর্তীতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক নিজেই বাদী হয়ে একই আদালতে আবারও মামলা দায়ের করেন। এবার মামলায় আসামী করা হয় স্ত্রী, মেয়ে-ছেলে, মেয়ের জামাই এবং স্থানীয় কৃষক সুরুজ জামানকে। বিষয়টি জানার পর স্ত্রীকে সাথে নিয়ে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে আসি। ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না। রয়েছি মেয়ের বাসায়। বাড়িতে যেতে চাইলে ফজলুল হক এবং আফজাল হোসেন প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি করে। এভাবে আর কতোদিন থাকতে হবে তাও জানি না।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সাবেক সিবিএ নেতা ফজলুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ সকল ঘটনা মিথ্যা বানোয়াট।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা