ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ করায় জেলা যুবদলের সদস্য শেখ খোরশেদ আহমেদ ওরফে দোলনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আহত অন্যরা হলেন সুমন তালুকদার (৩৬), ওয়াজেদ মোল্লা (৫০) ও মোস্তাক আহমেদ (৫০)। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সারের ডিলার নিয়োগের জন্য ১২ থেকে ১৫টি করে আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রার্থীর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার মনোনীত করা হয়। গত শুক্রবার তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন ইউনিয়নে অসন্তোষ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামনগর ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন খোরশেদ আহমেদ ও শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মন্ডল (৩০)। তাঁদের মধ্যে শিবলীকে ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়।
ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত প্রার্থীরা গত রোববার নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে খোরশেদ অভিযোগ করেন, শিবলী টাকা দিয়ে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এর জেরেই তাঁর ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোরশেদের ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করেন, সোমবার সন্ধ্যায় বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তাঁর ভাই। এ সময় শিবলীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন হাতুড়ি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। খোরশেদকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে অন্য তিনজনও হামলার শিকার হন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে শিবলী সাদিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল বলেন, সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে প্রতিবাদের জেরেই এ মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলীমুজ্জামান বলেন, ডিলার নিয়োগে বঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইউএনও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয় যাচাই করে যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে। তালিকা পাঠানোর পর উপজেলা প্রশাসনের আর কোনো ভূমিকা ছিল না। শুধু বিএনপির ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে, এমন কোনো শর্ত নীতিমালায় নেই বলেও জানান তিনি।