এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ,:
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ বলদেব ঝিউর আখড়া, ভীষণ ভরা রামকৃষ্ণ মিশন সহ বিভিন্ন সার্বজনীন পূজামণ্ডপে গিয়ে তারা প্রতিমা তৈরির অগ্রগতি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, ফায়ার সেফটি ও দর্শনার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২৪০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং গ্রুপও গঠন করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মণ্ডপের সাজসজ্জার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে এসে আরতিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন, সেদিকেও নজর দিতে হবে। আয়োজকেরা হয়তো এক মাস পরিশ্রম করে একটি অনুষ্ঠান সাজান। কিন্তু অনেক দর্শনার্থী এক বছর ধরে সেই অনুষ্ঠান দেখার অপেক্ষায় থাকেন। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে আয়োজনের সার্থকতা থাকে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক পুরনো ঘটনা বা এক এলাকার ঘটনার ছবি বা ভিডিও অন্য এলাকার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়। তাই তথ্য প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলার ২৪০টি মণ্ডপের প্রতিটিতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় থাকবে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারি। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। নদীপথে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এসপি আরও বলেন, কেউ যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট বা গুজব ছড়িয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, এই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন হউক।এর জন্য নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটিকে অনুরোধ করব, আপনারা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করুন এবং প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রাখুন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।