যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জন নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।
অব্যাহতি চাওয়া সাতজন হলেন মো. আব্দুল খালেক (৬৫), মো. এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও মো. ইমন কাজী (২৬)।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে অবস্থিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে একদল দুর্বৃত্ত গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুট করে। পরে হোটেলের ফ্রিজ, স্মার্ট টেলিভিশন, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, সাবস্টেশন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়।
এরপর গানপাউডার ও পেট্রোল ব্যবহার করে হোটেলের প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ হোটেলে অবস্থানরত ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডারও ছিলেন।
ঘটনার ১৩ দিন পর, ১৮ আগস্ট শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
এজাহারে হোটেলের বিভিন্ন মালামাল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, লিফট, জানালার গ্রিল, কাচের দরজা ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়। ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলাটির দীর্ঘ তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ ও আসামিদের অব্যাহতির বিষয়ে এখন আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।