September 18, 2026, 11:52 am

ভেনেজুয়েলার ৪ বিলিয়ন ডলারের সোনা নিউইয়র্ক ফেডে স্থানান্তরে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনার মজুত যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তর নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত চুক্তিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এফটির প্রতিবেদনে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার সোনার ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে। তবে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পরও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সোনা বিক্রি করতে পারবে না। বরং সরকারি ঋণ পরিশোধ এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য সোনার মজুতকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

জুনে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে সোনার মজুত জামানত রেখে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে থাকা ভেনেজুয়েলার সোনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই আইনি বিরোধের নিষ্পত্তিতে যুক্তরাজ্য সরকার কোনো পক্ষ নয়। আদালত ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড উভয়ই সরকারের কাছ থেকে স্বাধীন বলেও জানান তিনি।

প্রায় ৩১ মেট্রিক টন ভেনেজুয়েলার সোনা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০১৯ সালের শুরু থেকে এই সোনা নিয়ে বিরোধ চলছে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় ব্রিটেন সোনা ছাড়ার বিষয়ে আপত্তি জানায়।

ওই সময় ব্রিটিশ সরকারসহ কয়েক ডজন দেশ ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে সমর্থন করেছিল। ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোর বিজয়ে কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর দেশটির সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটিশ আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়।

গত জানুয়ারিতে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পরও ভেনেজুয়েলার সোনা ছাড় করা হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজও ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে সোনা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এর আগে গত মাসে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ ভল্টে থাকা সোনার মজুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় এই সোনা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা