September 18, 2026, 12:34 pm

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির আড়ালে আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট পরিদর্শন করেন রাশেদ খাঁন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে হঠকারী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। বর্তমান সরকারের বয়স সাত মাস হলেও গত ছয় মাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম জনগণের প্রশংসা পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী লংমার্চের মতো কর্মসূচি গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমির ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলেছেন। একই সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছিল উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন করেন, এবারও দল দুটির মধ্যে সরকারবিরোধী কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, কর্মসূচিটি যদি সত্যিই জনবান্ধব হয়ে থাকে, তাহলে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত হেঁটে আসা উচিত। একই সঙ্গে জামায়াত জোটের এক নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গাড়ি ব্যবহার করে লংমার্চে অংশ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, সাত দফা দাবি আদায়ের জন্য দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালনের প্রয়োজন নেই। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, লংমার্চের নামে সড়ক অবরুদ্ধ করে সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে এবং এতে জ্বালানিরও অপচয় হচ্ছে। আওয়ামী লীগও লংমার্চকে কেন্দ্র করে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে লংমার্চকে অযৌক্তিক মনে করলেও ভিন্নমতের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, বিএনপি ও সরকার কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাশেদ খাঁন। পরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান এবং বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা