September 18, 2026, 12:34 pm

রাজশাহীতে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ সাবেক ওসিকে থানায় নিল পুলিশ

প্রতিনিধি :

রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের দরজা দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভেতরে প্রবেশ করে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এক নারীসহ থানায় নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামে এক নারী অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে যান আন্নি আক্তার নামে এক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী এবং ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন।

আন্নির দাবি, ফ্ল্যাটের ভেতরে মাহবুব আলমের সঙ্গে অন্য একজন নারী রয়েছেন। দরজায় দীর্ঘ সময় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা খুলে ভেতর থেকে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে বের করে আনেন। পরে দুজনকে চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব আলম দাবি করেন, সানজিদা মৌ তার স্ত্রী। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করেন।

মাহবুব আলমের দাবি, তিনি চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

আন্নি আক্তার নওগাঁর বাসিন্দা এবং নিজেকে নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকার সময় একাধিক বিয়ে করেছেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আন্নি আরও দাবি করেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে মাহবুবের সঙ্গে পেয়েছিলেন তিনি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্নি আক্তার। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও তিনি রাজশাহীতে যাননি। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাহবুব আলমকে ওই থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা