September 15, 2026, 7:43 am

ছবি: সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক নেতার মামলার রায় আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক নেতার বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অপর ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা এ মামলায় দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ এ মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব শেষ হয়। এর দুই দিন পর ৪ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবস ধরে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ১৭ আগস্ট শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজের নথি ও দলিলপত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানো, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে এবং আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা