চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হলটির ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগের পর হল প্রশাসনের এক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে গেলে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে নাছিম উদ্দিনের দাবি, তাকে গালি দেওয়ার পর উত্তেজিত হয়ে তিনি ওই কথা বলেন।
হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগ পেয়ে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম এবং হল সংসদের কয়েকজন সদস্য সেখানে যান। পরে কক্ষটি পরিদর্শন করে অবৈধভাবে কারও থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ সময় কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।
হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমার অভিযোগ, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করব।’
রিপুল চাকমা বলেন, ‘রোববার আমি দেখি কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন হলে এসে বলছে, সে ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছে। এ নিয়ে আমি গ্রুপে কথা বলি। পরে স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কক্ষ নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে। এখানে বিশেষ বিবেচনায় সিট দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কক্ষে চারটি করে সিট থাকলেও তারা সেখানে পাঁচটি সিট নিয়েছে। আমাদের প্রার্থনা কক্ষ থেকে একটি থাকার সিট নিয়ে সেখানে দেওয়া হয়েছে। এ হলেই সিট বরাদ্দের সময় কক্ষ খালি রেখে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রুম দেওয়া হয়েছে।’
তবে তাকে গালি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রিপুল চাকমা বলেন, ‘আমি কক্ষে কাউকে গালি দিইনি।’
অভিযোগের বিষয়ে নাছিম উদ্দিন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাকে এই হুমকি দিয়েছি। আসলে বিষয়টা তখন হিট অব দ্য মোমেন্ট ছিল। তখন সে খারাপ ব্যবহার করছিল, তাই বলেছি। ওই সময় তার কিছু ছেলে-পেলে ছিল। সে আমাকে এবং আমার আম্মাকে বাজে ভাষায় বকছিল। তাকে তো এই অধিকার কেউ দেয়নি। সে ভিপি হোক বা যাই হোক, একজন শিক্ষার্থীকে সে বাজে ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। তার সঙ্গে এক ছেলে ছিল, কী যেন চাকমা নাম, ওইটাই আগে বাজে ভাষায় বকেছে। এরপর আমার রাগ উঠেছে।’
এ বিষয়ে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর কক্ষে যাই। কিন্তু কক্ষে যারা থাকে তারা জানায়, অবৈধ কেউ নেই, তারা অতিথি ছিল। এরপর কথা-কাটাকাটি হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’