সেলিনা জিন্নাত ঐশী, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি :
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিবসটি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন স্লোগানসম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থীরা।
আয়োজনের বিষয়ে স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি খাদিজাতুল কোবরা বলেন, “আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। একাডেমিক ও পিয়ার গ্রুপের চাপ, সম্পর্কজনিত সমস্যা এবং সামাজিক চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী একাকিত্ব ও মানসিক সংকটে ভুগছেন। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই আমাদের আজকের এ আয়োজন। আমরা শিক্ষার্থীদের বলতে চাই মন খারাপ হলে বা কোনো সমস্যায় পড়লে একা থাকবেন না, আমাদের কাছে আসুন। আমরা আপনাদের কথা শুনব এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী মো. আবু তারেক বলেন, “নোবিপ্রবিতে দুটি ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং আত্মহত্যা ও সেলফ-হার্মের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পেশাদারদের সংযোগ স্থাপনের কাজ করছেন। আত্মহত্যার চিন্তা অনেক সময় সাময়িক অসহায়ত্ব থেকে তৈরি হয়, সংকটে থাকা ব্যক্তির কথা মনোযোগ দিয়ে ও বিচারহীনভাবে শোনা এবং তার পাশে দাঁড়ানো গেলে সেই প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “সামাজিক, পারিবারিক ও শিক্ষাজীবনের নানা চাপ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই মানসিক চাপে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করে প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।নোবিপ্রবিতে একজন পুরুষ কাউন্সিলরের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একজন নারী সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে কথা হয়েছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিবলুর রহমান। এছাড়া কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ই-কারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।