September 7, 2026, 5:57 am

ডাকসুর মেয়াদ শেষের পথে, সময়মতো নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। নিয়ম অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের শুরুতেই পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কারও মতে, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচন আয়োজনকে বাড়তি ঝামেলা হিসেবে দেখছে প্রশাসন। ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এবারের একাডেমিক ক্যালেন্ডারেও ডাকসু নির্বাচন রাখা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বাজেটও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

তবে বর্তমান ডাকসু নেতারা বলছেন, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা হবে। তারা মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে নির্ধারিত সময়েই দায়িত্ব শেষ করে নতুন নির্বাচন চান।

যেকোনো মূল্যে নির্বাচন চান জিএস

ডাকসুর বর্তমান জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ডাকসুর সংবিধান অনুযায়ী তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে তারা একদিনও মেয়াদ বাড়াতে চান না।

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। আমরা ইসি মিটিংয়ে বলেছি, সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ আমরা মেয়াদ শেষ করতে চাই।’

ফরহাদ আরও বলেন, ‘যেহেতু গত বছরের ১২ তারিখ আমাদের কাজ শুরু হয়েছে, আগামী ১২ তারিখটা বড় করে পালন করতে চাই। সেখানে আমরা বলব, আমাদের দায়িত্ব শেষ। এখন ভিসি স্যার তফসিল দেবেন এবং ওনাদের তফসিলের প্রস্তুতি থাকবে।’

ডাকসুর সংবিধানের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণায় দেরি হলে মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও তারা এক ঘণ্টার জন্যও মেয়াদ বাড়াতে চান না। একই সঙ্গে উপাচার্য তাদের আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।

বাজেট না থাকলেও নির্বাচন হতে পারে

২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। তবে এবার নির্বাচনের জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি।

এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও বর্তমান ডাকসু নেতারা বলছেন, বাজেট কোনো বাধা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে ঘাটতি বাজেট থেকে নির্বাচনের ব্যয় মেটাতে পারে।

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা ডাকসু নির্বাচন যেকোনো মূল্যে আদায় করে নেব। আর পরবর্তীতে যাতে প্রতিবছর নির্বাচন হয়, সেই পথও সুগম করতে চাই। বাজেট কোনো ইস্যুই না। আবেদন করলেই এটার বাজেট পাওয়া যাবে।’

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বাজেটে ডাকসুর জন্য অর্থ রাখা হয়নি। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির কাছে আবেদন করে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বাজেট রাখা হয়নি। যদি নির্বাচন হয়, সেটা ঘাটতি বাজেট থেকে হবে।’

নির্বাচন নিয়ে কী বলছে প্রশাসন

২০২৫ সালের আগে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালে। তার আগে দীর্ঘ ২৯ বছর নির্বাচন হয়নি। এ কারণে এবারও সময়মতো নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ চারজন বর্তমান ডাকসু কমিটির সঙ্গে বসেছি। একই সঙ্গে প্রত্যেক হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গেও বসেছি। তাদের হলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। তাদের মতামত, নতুন করে কী কী বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন এবং নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা শেষে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হবে।

তবে ঠিক কবে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপ-উপাচার্য।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা