August 30, 2026, 9:41 pm

১০৭ বছরেও উন্নয়ন হয়নি ময়মনসিংহ বিভাগের প্রাচীনতম মাদরাসার

মোহাম্মদ আসাদ :

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় বীরগাঁও গ্রামে অবস্থিত বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসা—ময়মনসিংহ বিভাগের সবচেয়ে পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েও প্রতিষ্ঠার ১০৭ বছর পার করে এখনও রয়ে গেছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বাইরে। জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে ৮৩৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান।
১৯১৯ সালে মৌলভী রিয়াজুল ইসলাম মন্ডলের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে মাদরাসাটি। ৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ক্যাম্পাসসহ প্রতিষ্ঠানের নামে মোট জমির পরিমাণ ৫০ একর। এবতেদায়ি থেকে কামিল শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি রয়েছে এখানে। বর্তমানে ৮৩৫ জন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে কর্মরত আছেন ৪০ জন।

দীর্ঘ এই যাত্রায় মাদরাসাটি পরিচালনা করেছেন ১২ জন সুপার—নোয়াখালী হুজুর, কারী মাওলানা বুদু মিয়া, আব্দুল আজিজ খন্দকার, মীর হাসমত আলী, আজিজ খন্দকার, নূর আহমদ শরীফ, আব্দুল আজিজ খন্দকার (দ্বিতীয় দফা), লুৎফর রহমান, আব্দুল ওয়াহাব, মীর হাসমত আলী (দ্বিতীয় দফা), বজলুছ সোবহান ও এএনএম কামরুজ্জামান। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ৬ জন—আমজাদ হোসাইন, আব্দুল কুদ্দুছ আকন্দ, এএসএম শফিকুর রহমান, আদেল ইবনে আওয়াল, মাহমুদুর রহমান এবং বর্তমান অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ খসরু।

শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানার ভাষ্যমতে, দাখিল থেকে কামিল—প্রতিটি স্তরের পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই মাদরাসা। বকশীগঞ্জ উপজেলার ১৬টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এখানেই পরীক্ষা দেয়। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় পরীক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

শিক্ষার্থী মোস্তফা কামালের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উৎসাহ বাড়ে। কিন্তু আধুনিক যুগেও এই মাদরাসায় বিরাজ করছে সেকেলে পরিবেশ, যদিও এটি ময়মনসিংহ বিভাগের সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, এই মাদরাসা থেকে পড়াশোনা করে অনেক শিক্ষার্থী দেশে-বিদেশে ভালো অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটির অবদান উল্লেখযোগ্য এবং প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক। তবে এত অর্জনের পরও প্রতিষ্ঠানটির ভৌত উন্নয়ন হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
মাদরাসার অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ খসরু বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্মিত সবগুলো ভবনই এখন জরাজীর্ণ, তবু সেখানেই চলছে পাঠদান। ক্যাম্পাসে জায়গার কোনো অভাব নেই, কিন্তু সরকারিভাবে উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবকাঠামোর পাশাপাশি বিজ্ঞানাগার সংকটও রয়েছে। বিভিন্ন সরকারের আমলে বারবার আবেদন করা হলেও সাড়া মেলেনি। ফলে ১০৭ বছরের ইতিহাসে মাত্র একটি তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি প্রতিষ্ঠানটির।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা