আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নয়া দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। শনিবার আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি। আবেদনপত্রের ওপর পুলিশ সাফ লিখে দিয়েছে- ‘তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিতর্কের কারণে এই অনুষ্ঠান অনুমোদিত নয়’। ফলে অন্য আলোচকসহ আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। এফসিসি এক বিবৃতিতে এতথ্য জানিয়েছে। দ্য প্রিন্ট এ সংক্রান্ত রিপোর্টের সঙ্গে অনুষ্ঠানের আবেদনপত্রের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। আবেদনের উপর পুলিশ কর্মকর্তা লিখে দিয়েছেন- ‘রিটার্ন উইথ দ্য রিমার্কস দ্যাট দিস প্রোগ্রাম ইজ নট অ্যালাউড ডিউ টু সার্টেইন কন্ট্রোভার্সিস অ্যাজ পার ইনফরমেশন’।
তিলক মার্গ থানার সিলযুক্ত ওই নথিতে এই লেখার অর্থ ‘তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিতর্কের কারণে এই অনুষ্ঠান অনুমোদিত নয়- এমন মন্তব্যসহ নথিটি ফেরত পাঠানো হলো।’ এই একই ক্লাবে গত ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেন। তাতে বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকার নিয়ে মন্তব্য করা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনীতিতে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার সন্ধায় ওই ক্লাবে ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু এ পার্টনারশি’ শীর্ষক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এফসিসির প্রকাশিত আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এটি ‘সেমিনার-কাম-প্রেস কনফারেন্স’ হিসেবে আয়োজনের কথা ছিল।
এতে আওয়ামী লীগের একজন সদস্য, একজন রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীসহ মোট ১০ জনের অংশ নেয়ার কথা ছিল। প্যানেলে ছিলেন চেক রাজনীতিক ওন্দ্রেজ দস্তাল, জার্মান কূটনীতিক পিটার ফারেনহোল্টজ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী, বাংলাদেশি আইন বিশেষজ্ঞ সেলিম মাহমুদ, নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ, সাবেক কূটনীতিক বীনা সিক্রি, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব গোলাম জিলানি। এফসিসির এক সদস্য দ্য প্রিন্টকে জানান, অনুষ্ঠানটির জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির ব্যবস্থাপনা দলের একজন সদস্য নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিলক মার্গ থানায় যান।
পরে এফসিসি কর্তৃপক্ষ পুলিশ কর্মকর্তার কাছে অনুষ্ঠানটির বিস্তারিত তথ্য তুলে দেয়। তখন তাদের জানানো হয়, দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানটির অনুমতি দিতে ‘স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি’ জানিয়েছে। এরপর এফসিসি সদস্যদের কাছে পাঠানো এক নোটিশে অনুষ্ঠানটি বাতিলের কথা জানানো হয়। এফসিসি ম্যানেজার সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ আজ সন্ধ্যায় (২৯ আগস্ট, ২০২৬) নির্ধারিত ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে এফসিসিকে বাধা দিয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন, এই আকস্মিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
এফসিসির সভাপতি ওয়ায়েল আওয়াদ বলেন, অনুষ্ঠানটির বিষয় ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন।
পরে এফসিসি কর্তৃপক্ষ পুলিশ কর্মকর্তার কাছে অনুষ্ঠানটির বিস্তারিত তথ্য তুলে দেয়। তখন তাদের জানানো হয়, দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানটির অনুমতি দিতে ‘স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি’ জানিয়েছে। এরপর এফসিসি সদস্যদের কাছে পাঠানো এক নোটিশে অনুষ্ঠানটি বাতিলের কথা জানানো হয়। এফসিসি ম্যানেজার সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ আজ সন্ধ্যায় (২৯ আগস্ট, ২০২৬) নির্ধারিত ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে এফসিসিকে বাধা দিয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন, এই আকস্মিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
এফসিসির সভাপতি ওয়ায়েল আওয়াদ বলেন, অনুষ্ঠানটির বিষয় ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন।
তার ভাষায়, এটি ছিল ‘একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা’। তবে দিল্লি পুলিশ কেন অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শচীন শর্মা পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্যানেল আয়োজনের জন্য এফসিসির পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তাদের কোনো অনুষ্ঠানেই আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। তবে দিল্লি পুলিশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করলেও দ্য প্রিন্টের হাতে আসা একটি নথিতে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানটির জন্য ‘কোনো অনুমতি’ দেয়া হচ্ছে না বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।
এফসিসির সহকারী ম্যানেজার দিল্লি পুলিশের কাছে নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য পুলিশ সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ করেছিলেন। চিঠিতে বলা হয়, ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার-কাম-প্রেস কনফারেন্স হওয়ার কথা। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে সংবাদ সম্মেলনের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে এফসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্লাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পরই এই ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ই আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দেন। এফসিসির ওই সূত্রের দাবি, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সমালোচনা করা হয়। সূত্রটি আরও বলেন, প্যানেলে একজন জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করা আরেকজন বুদ্ধিজীবী থাকায় অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়ে থাকতে পারে।