August 30, 2026, 9:40 pm

যশোরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচ সাবেক এমপিসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম।
এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যশোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল ইসলাম রাজীবকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, কাজী নাবিল আহমেদ, রঞ্জিত রায়, মনিরুল ইসলাম ও ইয়াকুব আলী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট সকালে যশোর শহরের কাজীপাড়া কাঠালতলা এলাকায় পালোয়ান বাড়িগামী সড়কে সরকারবিরোধী ও নাশকতামূলক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিছিলকারীরা ‘জাতীয় শোক দিবস’ লেখা একটি ব্যানার ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যানারটি উদ্ধার করে।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ নেতা অশোক বোস, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আতিকুর বাবু ওরফে জার্মান বাবু, শুভ ভট্টাচার্য্য, মাহমুদ হাসান বিপু, জাহিদুল ইসলাম লাবু, কামাল হোসেন পর্বত, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, মোয়াজ্জেম হোসেন, বাবুল ওরফে ডিস বাবু, আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম, হাজী হাসান, জিলুর রহমান মানিক, সাবেক কাউন্সিলর হাজী সুমন, মাহফুজুর রহমান রুয়েল, মিনহাজুর রহমান, ইকরামুল হক তন্ময়, শুভ গোস্বামী মৃন্ময়, সাগর দত্ত, ফাহমিদ হুদা বিজয়, এস এম তানভীর আহমেদ রিয়েল, ইমরান হোসেন, আব্দুর রউফ পিন্টু, আশিকুর রহমান হৃদয়, মাসুদ হাসান কৌশিক, রিফাত আরেফিন, নজর আলী খোকা, সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, নূর ইসলাম নুরু, মিরাজুর ইসলাম অগ্র, সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট বাবুল, খালেদুর রহমান চুন্নু, আহাদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল আলম, মাস্টার বাহাউদ্দিন, দাউদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম ফুল, ওসমান গনি, ডা. তবিবর রহমান, শওকত হোসেন রত্ন, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, শহিদুর রহমান শহিদ, কাজী ফিরোজুজ্জামান, কাশিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান, যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হ্যাপি, আলতাফ হোসেন সর্দার, আব্দুল মান্নান মুন্না, নুরুজ্জামান সর্দার রমজান, মতিয়ার রহমান মেম্বার, আহাদুজ্জামান নয়ন, আব্দুল আওয়াল, সাদ মণ্ডল, মুনসুর আলী, আক্তার হোসেন, ইকরামুল কবির রবিউল, মিজানুর রহমান মুকুল, ইস্রাফিল সর্দার, শফিয়ার রহমান মেম্বার, তোরাব আলী মিয়া, আনসার আলী বিশ্বাস, মশিয়ার রহমান, মোসলেম উদ্দিন, হাসিউজ্জামান হাসু, রবীন্দ্রনাথ বসু, জহুর মোল্লা, আব্দুল ওদুদ মোল্লা, লুৎফর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক মুক্ত, হানিফ দফাদার, ওহেদুর রহমান, হাবিবুর রহমান বাবলু, রিজন, তসিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট এস এম আসাদুজ্জামান, সাকিব চৌধুরী, লুৎফর কবির বিজু, কামাল হোসেন, মিলন, সাবেক কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলন, মেহেদী হাসান মিন্টু, শাহিন, জহিরুল ইসলাম বড়ুয়া, নুর ইসলাম বাবু, মাহমুদুল হাসান বাবু, মীর কায়ুম আলী, পাপিয়া রহমান, মুনতাজ, হাফিজুর রহমান নান্টু, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল, আজিজুল আলম মিন্টু, সুলতান মাহমুদ পরান, মাসুম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পীর আলীর ছেলে জসিম এবং জহুরুল শেখ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনায় জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা