September 11, 2026, 9:35 am

বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি , আসছেন বিশ্বনেতারা

১৮তম ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। সপ্তাহান্তে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের এ সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা দিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন। ইতোমধ্যে সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি, বৈশ্বিক রাজনীতি এবং ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

মোদি-পুতিন বৈঠক, নজরে শি জিনপিংয়ের সফর

শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এদিকে প্রায় ছয় বছর পর ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘাতের পর ভারত-চীন সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে শি জিনপিংয়ের এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, ভিসা কার্যক্রম ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ায় সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলতে শুরু করেছে। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে।

১১ সদস্যের ব্রিকসে আলোচনায় বৈশ্বিক সংকট

পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জোটটির সদস্য ১১টি দেশ। এগুলো হলো ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও সদস্য দেশগুলোর অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান এক নয়। ফলে সম্মেলনে আঞ্চলিক সংঘাত ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন নেতারা।

সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন।

১৫ হাজার পুলিশ, ৫০০ সিসিটিভিতে নিরাপত্তা

সম্মেলন উপলক্ষে নয়াদিল্লিকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য, ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী এবং ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সম্মেলনের কারণে রাজধানী পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না। তবে ভিভিআইপি অতিথিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা বা বিকল্প পথে পাঠানো হতে পারে।

সম্মেলন চলাকালে মথুরা রোড, সর্দার প্যাটেল মার্গ ও শান্তিপথসহ ৩৫টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে আগেই ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা