আগে থেকে মজুত থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত কারখানায় ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজনের কাজ শুরু করেছে ইরান। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামোর বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এর পরও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসহ একাধিক সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। এসব স্থাপনায় তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে নতুন হামলা মোকাবিলায় আরও ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল, তাদের সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা। তবে নতুন করে উৎপাদন শুরুর এই তথ্য সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। একই সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে তেহরানের সক্ষমতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তাল ইনবার এবং সিআইএর সাবেক বিশেষজ্ঞ জিম ল্যামসনের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান বিপুল পরিমাণ ওয়ারহেড, এয়ারফ্রেম ও গাইডেন্স সিস্টেম মজুত করেছিল। এসব উপাদান ব্যবহার করে দেশটি আরও কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেবেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে নৌ-অবরোধ ও কাঁচামাল আমদানিতে বাধা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সামরিক অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারের চিত্র দেখা গেছে। সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ, সেতু ও সড়ক মেরামতের কাজও দ্রুত এগিয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডন ও প্যারিসের সায়েন্সেস পো-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিস্তৃত সামরিক নেটওয়ার্ক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধারে দেশটিকে সহায়তা করছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল