September 11, 2026, 6:49 pm

ছবি:সংগৃহীত

আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। একই সঙ্গে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর গ্রহণযোগ্য বা সহ্য করার মতো নয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা ও সংকট নিরসনের জন্য সম্ভাব্য সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পরই সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বারবার সতর্ক করা হলেও আবুধাবির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কঠোর এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। তবে আলজেরিয়ার ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই অবনতি হচ্ছিল। আলজেরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আমিরাতের নীতির সমালোচনা করে অভিযোগ করা হয়, উত্তর আফ্রিকা ও আশপাশের অঞ্চলে বিভেদ ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে আবুধাবি ভূমিকা রাখছে।

দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ ইসরায়েল ইস্যু। আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আসছে। বিপরীতে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সময়ে আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করে আমিরাত এবং সেখানে নিজেদের কনস্যুলেটও স্থাপন করেছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত পলিসারিও ফ্রন্টকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছে।

এ ছাড়া সাহেল অঞ্চলের ভূরাজনীতিও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ আরও বাড়িয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাহেল অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে, তখন ওই দেশগুলোর সামরিক সরকারের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এর আগে গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন আমিরাতের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে উপসাগরীয় একটি দেশের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের কেবল একটি দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে। ওই দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি।

দুই দেশের উত্তেজনার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল আলজেরিয়া। সর্বশেষ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্য রূপ পেল।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা