September 11, 2026, 2:07 pm

হিলারি ক্লিনটন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু । ছবি সংগ্রহীত

নেতানিয়াহু ফের ক্ষমতায় এলে ওয়াশিংটনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান হিলারির

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নেতানিয়াহু আবারও প্রধানমন্ত্রী হলে তার সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে ইসরায়েলে নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কার্যকর হবে বলেও মন্তব্য করেছেন হিলারি।

সম্প্রতি ‘এমএস নাউ’-এর ‘মর্নিং জো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নেতানিয়াহু সরকারের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

হিলারি বলেন, ইসরায়েলের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে, তবে নেতানিয়াহু সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি একমত নন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ও তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেন বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমি ইসরায়েলকে ভালোবাসি, তবে নেতানিয়াহুর সরকার ও তার নীতিকে মন থেকে অপছন্দ করি। ঠিক একইভাবে আমি নিজের দেশ আমেরিকাকে ভালোবাসি, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ও তার কাজকর্মকে একদম মানতে পারি না।’

ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি শুধু দেশটির ভবিষ্যতের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেন হিলারি। তার মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সরকারের নীতির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফিরলে ওয়াশিংটনের নীতি কী হওয়া উচিত, সে বিষয়েও কথা বলেন তিনি। হিলারির মতে, সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। বিপরীতে নতুন কোনো নেতৃত্ব ক্ষমতায় এলে তাদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে যখন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, তখন হিলারির এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তার নেতৃত্বাধীন জোটের অবস্থান নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের তুলনায় বিরোধী দলগুলো কিছুটা এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে সপ্তমবারের মতো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন নেতানিয়াহু। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে তার অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

ফলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে মিত্রদের সমর্থনের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে নেতানিয়াহুকে। এ কারণে আসন্ন নির্বাচন তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান জোটের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা