September 10, 2026, 5:08 pm

ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের ফাইল ছবি: এপি

হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির নতুন কৌশল, সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে পাল্টা চাপ

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিরোধের সমন্বিত পথে এগোচ্ছে রিয়াদ। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রফতানি নির্বিঘ্ন রাখাও সৌদির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি হুথিদের বড় ধরনের হামলায় সৌদি আরবের চারটি শহরের জ্বালানি অবকাঠামো এবং একটি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর সৌদি আরামকোর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতার জাজান রিফাইনারিতে আগুন ধরে যায়।

হুথিরা দাবি করেছে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ১২০টির বেশি বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সৌদি-সমর্থিত জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের ‘অপারেশনাল ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

তবে রিয়াদের বর্তমান পরিকল্পনা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নয়। বরং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সামরিক সহায়তা দিয়ে হুথিদের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে সৌদি আরব।

ইয়েমেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সমীর আল-সাবরি জানিয়েছেন, রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হুথি মুখপাত্র নসরুদ্দিন আমিরের দাবি, সৌদি বাহিনীর বিমান হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়লে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করা হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের মতে, পাকিস্তানের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সীমিত বা প্রতীকী পর্যায়ে থাকতে পারে। কারণ তুরস্ক ও পাকিস্তান উভয় দেশই ইরানের সীমান্তবর্তী এবং কোনো পক্ষই সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে আগ্রহী নয়।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সৌদি আরবের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পথ দিয়ে জ্বালানি রফতানি সচল রাখা এখন রিয়াদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকার।

যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও তা অনেকটা ‘আড়ালে থেকে’ দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার নিয়ে রিয়াদের উদ্বেগও বাড়ছে।

সানওবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমার মতে, সৌদি আরব সংঘাতকে ইয়েমেনের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। বিপরীতে হুথিদের লক্ষ্য হলো যুদ্ধের পরিধি সৌদি ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরির কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান হুথিদের আরও সক্রিয় করছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।

শুধু ইয়েমেন নয়, ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের নিয়েও সৌদি আরবকে বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে একাধিক দিক থেকে চাপের মুখে থাকা রিয়াদের মূল লক্ষ্য এখন ইয়েমেনে হুথিদের ওপর চাপ বজায় রেখে নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল রফতানি নিরাপদ রাখা।

সূত্র: আল-মনিটর

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা