September 11, 2026, 2:07 pm

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শহীদ মোড়ে সারের জন্য বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ (৭ সেপ্টেম্বরের ছবি)

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে বিক্ষোভ, এখন গ্রেফতারের ভয়ে পালায় থাকতেছে কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকায় নাম থাকার আশঙ্কায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে রয়েছেন সাধারণ কৃষকদের অনেকে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় এক সার ডিলারের গুদামের সামনে কয়েকশ কৃষক সারের দাবিতে জড়ো হন। ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের ওই এলাকায় কৃষকেরা অভিযোগ করেন, চাহিদার তুলনায় তারা পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে কিছু কৃষককে বেশি পরিমাণে সার দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।

একপর্যায়ে কৃষকেরা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এবং কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ও বিএসকে (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) অবরুদ্ধ করে হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন।

ঘটনার দিন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন কৃষক জানান, সারের জন্য কয়েকশ কৃষক ডিলারের গুদামের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। তখন সবাইকে ১০ কেজি করে সার দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের সময় প্রভাবশালী ও টাকাওয়ালা কিছু কৃষককে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কয়েক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে সাধারণ কৃষকেরা চার-পাঁচবার ঘুরেও সার পাচ্ছিলেন না। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

কৃষকদের ভাষ্য, সারের দাবিতে জড়ো হওয়া লোকজনের মধ্যে থাকা কয়েকজন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। একপর্যায়ে ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা ও বিএসের ওপর হামলার জন্য উসকানি দেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, কৃষি কর্মকর্তা ও বিএসকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচাতে একটি বাড়ির ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রায় ছয়-সাতশ মানুষ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ইউএনও ঘটনাস্থলে এসে মাইকিং করে কৃষকদের খুচরা পর্যায়ে সার দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং দুইজনকে এক বস্তা করে সার দেওয়ার কথা জানান।

তবে মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরই টাকাওয়ালা কয়েকজন কৃষক পাঁচ থেকে সাত বস্তা করে সার পেয়েছেন। তার দাবি, স্বজনপ্রীতির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মামলা হওয়ার পর এখন সাধারণ কৃষকেরাও গ্রেপ্তারের ভয়ে রাতে বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলে তিনি জানান।

গুনাইয়েরকুটি গ্রামের এক কৃষক বলেন, মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, রাতে পুলিশ আসার ভয়ে অনেকেই বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না। সারাদিন মাঠে কাজ করার পরও রাতে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।

আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং কৃষি কর্মকর্তা ও বিএসকে নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যারা হামলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় এখন সাধারণ কৃষকদের মধ্যেও গ্রেপ্তার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বাদী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সরকারি কাজে বাধা এবং কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাধারণ কৃষকদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের বিষয়ে ওসি বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। তাই সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা