September 11, 2026, 8:16 am

ছবি : সংগৃহীত

লালবাগে মাটির নিচে ব্যবসায়ীর লাশ, আটক ১

রাজধানীর লালবাগে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিন লাখ টাকা ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনে অভিযান শুরু করে লালবাগ থানা পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টার অভিযানের পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মো. মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওয়াসিম রনি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে আটক মাসুম চৌধুরী ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবনের পাশ থেকে ওয়াসিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের একটি পাইকারি কারখানা ছিল।

মাসুমের দুলাভাইয়ের দাবি, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন মাসুম। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে মূল টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে মাসুমের বিরোধ তৈরি হয়।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাওনা টাকা চাইতে মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান ওয়াসিম। সেখানে টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন বলে দাবি করেন তার দুলাভাই। এতে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান বলে তিনি জানান।

পরবর্তীতে ওয়াসিমকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয় বলে পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারেন বলে দাবি করেছেন মাসুমের দুলাভাই। শুক্রবার ভোরে ওই স্থান থেকেই পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওয়াসিমের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। ওই দিন তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি চেক দেওয়ার কথা ছিল বলেও তারা জানতে পারেন। এরপর দুপুরের পর থেকে ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ওয়াসিমের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তারা মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে তিনি ওয়াসিমের বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান এবং ওয়াসিম বাসায় এসে পরে চলে গেছেন বলে দাবি করেন।

পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় গিয়ে ওয়াসিম নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্নভাবে তার সন্ধান চালায়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, একটি ভবনের নিচতলার পাশের মাটির নিচে ওয়াসিমের লাশ চাপা দেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, ওয়াসিমের লাশ গোপন করতে আট বস্তা মাটি এনে ভবনের পাশে তাকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তার বোনের স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, ওয়াসিমকে হত্যার পর তার হাত-পা বেঁধে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার শরীরে আঘাতের ধরন, মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওয়াসিম রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা