September 12, 2026, 9:44 am

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ২০১৭ সালে চুক্তি করে পিডিবি । ছবি : সংগৃহীত

কয়লা সংকটের পর কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং আরও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উৎপাদন আরও বাড়তে থাকে। গতকাল রাতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর উৎপাদন নেমে আসে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চাহিদা অনুযায়ী এ কেন্দ্র থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।

এদিকে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সামগ্রিক সংকটও অব্যাহত রয়েছে। পিডিবি সূত্র বলছে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রও জ্বালানি সংকট ও কারিগরি সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কয়েক দিন ধরে কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। একই জেলার আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রয়েছে কয়লার সংকট। এছাড়া বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমেছে।

জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিংও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা ৩টায় দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। আজ ছুটির দিন সকালেও সারাদেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা