September 11, 2026, 8:15 am

বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই বছরেও চালু হচ্ছে না মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস

প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি তিন দিনের ৩৮তম আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো চালুর বিষয়টি এজেন্ডাতেও ছিল না। তবে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে নতুন রুটে চালানোর একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের টিম লিডার ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত কোনো পক্ষের এজেন্ডাতেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টি ছিল না। ফলে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস কবে চালু হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ এসব ট্রেন বন্ধ করেনি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই ট্রেনগুলো বন্ধ রয়েছে। তাই ভারতীয় পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব না এলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই।

পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী চালানোর প্রস্তাব

বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে।

জিয়াউল হক জানান, পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলেনি। তাই নতুন রুটে ট্রেন চালুর আগে সেতুটির সক্ষমতা ও বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পরীক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীরা প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় করতে পারবেন। দূরত্ব কমার কারণে ভাড়া কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ট্রেনের ইমিগ্রেশন সুবিধা, ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেন ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা এবং কমলাপুর রেলস্টেশনের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ তা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করবে।

তবে মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ে এককভাবে নিতে পারবে না। এ জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

বন্ধন ও মিতালী নিয়ে আলোচনা হয়নি

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলাচলকারী তিন আন্তঃদেশীয় ট্রেন মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এবারের বৈঠকে বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তবে দুই দেশের রেলওয়ের সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ভারতীয় রেলওয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের মতোই ভালো রয়েছে এবং এবারের বৈঠকেও ভারতীয় পক্ষের মনোভাব ইতিবাচক ছিল।

গত বছরের বৈঠকের সঙ্গে এবারের বৈঠকের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তবে এবার তারা এ বিষয়টি উত্থাপন করেনি।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথেও নতুন সিদ্ধান্ত নেই

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে ট্রেন চলাচলের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগের বৈঠকের সিদ্ধান্তই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য যাত্রী চাহিদার প্রক্ষেপণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৈঠকের পর থেকে ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে আর কোনো যোগাযোগ করেনি বলে জানান জিয়াউল হক। এবারের বৈঠকে আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের পর্যায়ে হবে। রেলওয়ে বা রেলপথ মন্ত্রণালয় এককভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলেও গুরুত্ব

তিন দিনের বৈঠকে যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উপায় নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রেও ভারতীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে বলে জানান বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের এই কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা