September 15, 2026, 7:44 am

জেলের জালে ধরা পড়া ইলিশ , ছবি সংগৃহীত

পাঁচ দিন জাল ফেলেও ইলিশের দেখা নেই, ষষ্ঠ দিনে ২২শ কেজি মাছ

প্রতিনিধি:
টানা পাঁচ দিন বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলেও ইলিশের দেখা পাননি কক্সবাজারের ‘এফভি কুলসুমা’ ট্রলারের জেলেরা। তবে ষষ্ঠ দিনে মহেশখালী উপকূলের গভীর সাগরে জাল ফেলতেই বদলে যায় তাদের ভাগ্য। এক টানেই উঠে আসে প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি ইলিশ। ঘাটে এনে এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে সাত দিন সাগরে অবস্থান শেষে ২ হাজার ২০০ কেজি ইলিশসহ কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা ঘাটে ফিরে আসে ‘এফভি কুলসুমা’। ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর পরপরই মাছ খালাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েন জেলেরা।

ট্রলারের ডেকে ইলিশের পাশাপাশি পোপা, মাইট্যা, রুপচাঁদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছও ছিল। শ্রমিকরা ঝুড়িতে করে এসব মাছ পাশের ফিশারিঘাটের পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে নিয়ে যান।

পরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ট্রলারের ২ হাজার ২০০ কেজি ইলিশ ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কিনে নেন। ধরা পড়া ইলিশগুলোর প্রতিটির ওজন ছিল প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। বিক্রির পর শ্রমিকরা ইলিশগুলো বরফমিশ্রিত কার্টনে ভরে ট্রাকে তোলেন। দুপুরে ট্রাকটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

এদিকে ‘এফভি কুলসুমা’ ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে ফিশারিঘাটজুড়ে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে একসঙ্গে এত ইলিশ খুব কম ট্রলারেই ধরা পড়েছে।

ট্রলারের ১২ জেলেও এ ঘটনায় বেশ খুশি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইলিশ বিক্রির টাকা থেকে খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। দীর্ঘদিন পর ভালো পরিমাণ মাছ পাওয়ায় দ্রুত মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে পারছেন তারা।

ট্রলারটির মালিক কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছটার বাসিন্দা আমান উল্লাহ (৫৪) বলেন, গত তিন মাস ধরে কক্সবাজারের জেলেরা তেমন ইলিশের দেখা পাননি। ঘন ঘন নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে গত দুই মাস সাগরে নামাও সম্ভব হয়নি। তবে গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে কয়েকটি ট্রলারে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে। শেষদিকে এসে তার ট্রলারে এত মাছ ধরা পড়বে, তা তারা ভাবতেও পারেননি।

তিনি জানান, মহেশখালীর তাজিয়াকাটা এলাকা থেকে পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার গভীরে জাল ফেলেই এই ইলিশ ধরা পড়ে। তার দাবি, এখন পর্যন্ত এত বেশি ইলিশ কোনো ট্রলারে ধরা পড়েনি। গভীর সাগরে ইলিশ থাকলেও ছোট ট্রলার নিয়ে ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাছ আহরণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ট্রলারের জেলে আলমগীর বলেন, টানা পাঁচ দিন ১২ জন জেলে সাগরের বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলেও ইলিশের দেখা পাননি। ষষ্ঠ দিনে মহেশখালী উপকূলে জাল ফেললে ২ হাজার ২০০ কেজি ইলিশ ধরা পড়ে। এই মাছই তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পাবেন। এক মৌসুমের হিসাবে টাকা কম হলেও এক দিনের জন্য এটি তাদের কাছে অনেক ভালো আয়।

ফিশারিঘাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে গতকাল এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বেশির ভাগ ইলিশই ছিল মাঝারি আকারের। জেলে ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মাঝারি আকারের অধিকাংশ ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে।

ইলিশ ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সাগর থেকে অন্তত ৩০০টি ট্রলার ফিশারিঘাটে এসেছে। প্রতিটি ট্রলারে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি করে ইলিশ ধরা পড়েছে। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলিশ এসেছে আমান উল্লাহর ‘এফভি কুলসুমা’ ট্রলারে। ইলিশভর্তি ট্রলার ঘাটে আসায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা