পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সোমবার বিমান, মহাকাশ ও সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রয় মেঙ্ক বলেন, সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন ছিল। তবে কী ধরনের অস্ত্র মহাকাশে স্থাপন করা হয়েছে কিংবা ঠিক কবে তা মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
মেঙ্ক বলেন, পরিবর্তিত ও ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে মহাকাশকে কেন্দ্র করে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথের বিভিন্ন হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সামরিক স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মহাকাশযানের সক্ষমতা অকার্যকর করার মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ব্যাহত, অকার্যকর কিংবা ধ্বংস করতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। কমান্ডারের নির্দেশ অনুযায়ী এসব সক্ষমতা আত্মরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্সের প্রধান দায়িত্ব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মহাকাশ সম্পদ সুরক্ষা করা। তবে গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাহিনীটির আত্মরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত করা হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে রাশিয়া ও চীন মহাকাশকে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায়, যা অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। এছাড়া ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের ওপর রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারি বা আড়িপাতার ঘটনা ঘটেছে বলেও মার্কিন তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি