September 18, 2026, 10:56 am

রাশিয়ার জ্বালানি-প্রতিরক্ষা খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে । ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিল পাস মার্কিন কংগ্রেসে

রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলটি পাস হয়। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য বিলটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে।

বিলটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাত, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ হিসেবে পরিচিত ট্যাংকারগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার বিধান রয়েছে।

বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা ভারত ও চীনের মতো দেশও সম্ভাব্যভাবে এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে। তবে কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের ওপরই নির্ভর করবে।

এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়। ট্রাম্পও ইতোমধ্যে এতে স্বাক্ষর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তবে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি নিয়ে পুরোপুরি ঐকমত্য দেখা যায়নি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে থাকা অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রেসিডেন্টকে এত বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যনীতিতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন।

বিলে রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাকারী কোম্পানি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে কিছু অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমানো এবং মস্কোকে আলোচনার টেবিলে আনাই বিলটির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে এর সমর্থকেরা মনে করছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দীর্ঘদিন ধরে বিলটি পাসের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। জুলাইয়ে তার আকস্মিক মৃত্যুর পর তার সম্মানে বিলটির নামকরণ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তিনি বিলটি নিয়ে কাজ করছিলেন।

এদিকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে ভারত জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহের বৈচিত্র্য বিবেচনা করেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা