September 18, 2026, 6:49 pm

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ অধিবেশনে আব্বাসের যোগদানে বাধা, ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি যোগ দিতে পারছেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো বার্ষিক এই অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একই সময়ে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

আল জাজিরার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে মাহমুদ আব্বাসকে মার্কিন ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। গত বছর সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের পর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। এবারও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর কথা জানায়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর কয়েক দিন আগে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, পিএলও ও পিএ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা। পাশাপাশি আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ এবং ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা প্রদান ও সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করার’ অভিযোগও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছরও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। সে সময় পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে আগের ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল। জাতিসংঘ সদর দপ্তর-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় কিছু ছাড়ের সুযোগ থাকলেও মাহমুদ আব্বাস সরাসরি নিউইয়র্কে গিয়ে অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি।

এবারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে বার্তা সংস্থা আনাদোলু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে আব্বাস ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং এর আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছিল। জবাবে দপ্তরের উপমুখপাত্র পালোমা চাকন ই-মেইলে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

চাকন বলেন, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার দায়িত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ মানের যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ভিসা আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিনিধিদলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে কিংবা নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা