October 4, 2026, 1:58 pm

জামায়াত-আওয়ামী লীগ ‘সমঝোতা’ নিয়ে গুঞ্জন, জোটের সম্ভাবনা নাকচ করল জামায়াত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কথিত সমঝোতা বা জোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়লেও এমন কোনো সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছে জামায়াত। দলটির দাবি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।

সম্প্রতি জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিএনপির সঙ্গে দলটির টানাপড়েন এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের বিষয় সামনে আসায় নতুন করে এ আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর ফেনীর ফুলগাজীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার ও গুপ্তদল আবার এক হয়েছে।’ উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি না থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেয় জামায়াত।

এরপরই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কথিত ‘অ্যালায়েন্স’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

তবে জামায়াতের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতার বিষয় দেখা যায়নি। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছে। সেপ্টেম্বরেও ঢাকা-চট্টগ্রাম ও রংপুরে এসব দাবিকে কেন্দ্র করে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এদিকে নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের একটি অংশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরেও একই ধরনের যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে তাদের দাবি। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ বা জামায়াতের পক্ষ থেকে এমন যোগাযোগের স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে মাঠে কর্মসূচি পালন করছে। জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্টে জামায়াত ও এনসিপি বিভিন্ন দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে। এর ধারাবাহিকতায় আরও কয়েকটি বিভাগে লংমার্চ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জোটের একটি সূত্র জানায়, আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় নির্ধারিত মহাসমাবেশের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। দেশজুড়ে লংমার্চ কর্মসূচির কারণে এ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে লংমার্চ যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। শিগগিরই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হতে পারে। লংমার্চ শেষে ডিসেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসেছে। সংরক্ষিত আসনে রয়েছেন আরও ১২ জন নারী সংসদ সদস্য। সংসদের ভেতরে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নজরদারি, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সংসদীয় কমিটিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজপথেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মানবজমিনকে বলেন, দেশ ও জাতি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ দেখতে চায়। ফ্যাসিবাদ দেশের অনেক ক্ষতি করেছে। এখন ক্ষমতায় থেকে কেউ ফ্যাসিবাদের বয়ান আওড়ালে তা তার দল ও দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘অ্যালায়েন্সের’ কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের যথাযথ বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

জুবায়ের আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছে। তাদের রাজনীতি স্পষ্ট ও স্বচ্ছ এবং দলটি সব সময় স্বচ্ছ ও সুন্দর রাজনীতির নীতি অনুসরণ করে আসছে।

মানবজমিন থেকে :

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা