গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর আবারও নতুন করে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে সরকারের কাছে তিনটি প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন।
হামিদুর রহমান আযাদের প্রশ্নগুলো হলো, আগের গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক অবস্থান কী; সেই গণরায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন গণভোটের প্রয়োজন কেন হলো; এবং নতুন গণভোটের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী ও এর সঙ্গে আগের গণরায়ের সম্পর্ক কী।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, সরকার সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। অথচ গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল। ফলে একই বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নতুন করে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোট আয়োজনের আগে সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে আগের গণভোটের রায় বর্তমানে কোন অবস্থায় রয়েছে। আগের গণরায় কার্যকর ও বহাল থাকলে একই বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
অন্যদিকে, আগের গণরায় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হলে এর সাংবিধানিক ভিত্তি কী এবং কোন আইন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেই সিদ্ধান্ত আবার জনগণের সামনে নেওয়া হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার দাবি, এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু নতুন গণভোটের ঘোষণা দিলেই এর সাংবিধানিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণভোটকে রাজনৈতিক দলের পছন্দ অনুযায়ী বারবার জনগণের কাছে যাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণ কোনো বিষয়ে একবার রায় দিলে সেই রায়ের মর্যাদা, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলো আগে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সরকার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলে জনগণই তা বিচার করবে।
তিনি আরও বলেন, আগের গণরায়ের সাংবিধানিক অবস্থান অস্পষ্ট রেখে নতুন গণভোটের প্রশ্ন তোলা হলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাঁর ভাষায়, জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ, বর্জন বা পুনর্বিবেচনার বিষয় নয়। জনগণ ভোট দেওয়ার পর রাষ্ট্র সেই রায়কে কতটা সম্মান করে, সেটিই গণতন্ত্রের মূল পরীক্ষা।