-
- রাজনীতি
- বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’
ছবি : সংগৃহীত
- আপডেটের সময় : নভেম্বর, ৭, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
- 17 বার দেখা হয়েছে
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রচারণায় বেজে ওঠে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’ গানটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকে দলীয় গান ও ভাষণ প্রচারের কর্মসূচি নেয় নগর বিএনপি। সকাল থেকে আগ্রাবাদেও মাইকে গান বাজানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে সেখানে শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গানটি বেজে ওঠে।
মাইকে গানটি বাজানোর ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, বিএনপির কর্মসূচিতে অসতর্কতাবশত গানটি বেজে উঠেছিল। তবে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি দেখলেও ঘটনার বিস্তারিত তাদের জানা নেই।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাইকে ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’ গানটি বাজছে। পাশের সড়কে চলাচল করছে রিকশা, অটোরিকশা, সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শওকত আজম খাজা গণমাধ্যমে বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকে দলীয় গান ও ভাষণ প্রচারের কর্মসূচি ছিল। আগ্রাবাদে দলের কর্মসূচিতে অন্য দলের গান বাজানোর একটি ভিডিও তার নজরে এসেছে। তবে কারা গানটি বাজিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ ফয়সাল গণমাধ্যমে বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে অন্য একটি গান বাজানোর ভিডিও তাদের নজরে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মসূচির আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে দলীয় গান বাজানো হচ্ছিল। একের পর এক গান চলার মধ্যেই এক পর্যায়ে ওই গানটি বেজে ওঠে। তবে দ্রুত গানটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে গানটি বাজানো হয়নি।
এই বিভাগের আরও খবর
- পাপিয়ার হুঁশিয়ারি, ‘জামায়াতের বোর্ডিং পাস পাকিস্তানের জন্য প্রস্তুত করুন’
- ‘ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি’: নাহিদ ইসলাম
- এনসিপিতে নারী নেত্রীদের পদত্যাগে বাড়ছে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে জামায়াতের সঙ্গে জোট
- বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
- সামান্তাকে নিয়ে অপপ্রচার, সমালোচনায় মাহফুজ আলম
- জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
- কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই আবেদনে আমির হামজার নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, মোটরযান, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুষ্টিয়া শাখায় তাঁর একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। এতে ৩৬ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, আমির হামজা প্রতি শুক্রবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্মানী পান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব আয়ের তথ্য নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে, যার পুরোটাই হামজা এন্টারপ্রাইজের কাপড় ও বইয়ের ব্যবসা থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করা এবং তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি সম্পত্তির তথ্যেও অসংগতির অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, হলফনামায় আমির হামজার কৃষিজমির মূল্য ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে তা ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর কৃষিজমির পরিমাণ হলফনামায় ১২ কাঠা বা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে ১২০ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে। দুই নথিতে জমির মূল্যেও ১৫ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৬৪৯৮ নম্বর দলিলে আমির হামজার স্ত্রী ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য ৬ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর অংশের মূল্য ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই সম্পত্তির তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে কুষ্টিয়া শহরের রাহিনী মৌজায় আমির হামজার নিজ নামে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ জমির একটি আবাসিক প্লট থাকার কথাও বলা হয়েছে। ২০১৪ সালে কেনা ওই জমির বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী। তবে হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে এ সম্পত্তির তথ্য নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে দেখানো বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়িভাড়ার আয়, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৯-১৭৫৭ নম্বরের গাড়ি, ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম স্বর্ণ এবং পাঁচতলা ভবন ও জমির মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, গাড়িটির মূল্য হলফনামায় ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে এর তথ্য নেই। একইভাবে আয়কর রিটার্নে ১০ ভরি স্বর্ণের তথ্য থাকলেও নির্বাচনী হলফনামায় তা উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি কি না, তা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬০ টাকা দেখানো হলেও চালকের বেতন, ইউটিলিটি বিল ও সন্তানদের শিক্ষাব্যয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবন ও জমির সম্মিলিত মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৮৩ টাকা দেখানো নিয়েও আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারী। আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে অসংগতি কিংবা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা ও নির্বাচন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মূল দলিল উপস্থাপন করে তদন্তে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবেদনকারী সিরাজুল ইসলাম ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করছি, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী হলফনামায় বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক তথ্যের অসংগতি রয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি একজন আলেম মানুষ। তার কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশা করিনি। এ কারণে আমি অভিযোগ করেছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
- জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না: জামায়াত
- বিপ্লব আপনারা কবে করেছেন, কোন বিপ্লবে ছিলেন: জামায়াতকে রিজভী
- পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন