-
- রাজনীতি
- ‘ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি’: নাহিদ ইসলাম
- আপডেটের সময় : নভেম্বর, ৭, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
- 30 বার দেখা হয়েছে
‘ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসে মনে হয় কেউ দেশে আসতে চাচ্ছে। আপনারা কি প্রস্তুত আছেন? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবারও কি সেভাবে প্রস্তুত আছি? এবার কি আগের চেয়ে বেশি হবে না কম হবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ওসমান হাদির ভাষায়, শত্রুর প্রতি আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি। আমরা ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাইনি। জুলাইয়ে আমাদের যেসব ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, তাঁদের হত্যারও বিচার পাইনি।’
বিচার না পেলে জনগণ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি ন্যায়বিচার না পায়, তখন জনগণ নিজেই প্রতিরোধ শুরু করে। ডিসেম্বর আমাদের প্রতিরোধের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস। একাত্তরে বিজয় লাভ করেছি, চব্বিশেও বিজয় লাভ করেছি। ২০২৬ সালেও বিজয় লাভ করব ইনশাআল্লাহ। আগামী সব ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বিজয় লাভ করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনের সময় নয়, বরং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনেরও সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগিং, ছাত্র নির্যাতন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে মন জয় করাই ছাত্রসংগঠনের কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই প্রকৃত ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেলিনা জিন্নাত ঐশী, নোবিপ্রবি (নোয়াখালী) :
এই বিভাগের আরও খবর
- পাপিয়ার হুঁশিয়ারি, ‘জামায়াতের বোর্ডিং পাস পাকিস্তানের জন্য প্রস্তুত করুন’
- বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’
- এনসিপিতে নারী নেত্রীদের পদত্যাগে বাড়ছে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে জামায়াতের সঙ্গে জোট
- বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
- সামান্তাকে নিয়ে অপপ্রচার, সমালোচনায় মাহফুজ আলম
- জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
- কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই আবেদনে আমির হামজার নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, মোটরযান, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুষ্টিয়া শাখায় তাঁর একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। এতে ৩৬ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, আমির হামজা প্রতি শুক্রবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্মানী পান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব আয়ের তথ্য নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে, যার পুরোটাই হামজা এন্টারপ্রাইজের কাপড় ও বইয়ের ব্যবসা থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করা এবং তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি সম্পত্তির তথ্যেও অসংগতির অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, হলফনামায় আমির হামজার কৃষিজমির মূল্য ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে তা ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর কৃষিজমির পরিমাণ হলফনামায় ১২ কাঠা বা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে ১২০ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে। দুই নথিতে জমির মূল্যেও ১৫ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৬৪৯৮ নম্বর দলিলে আমির হামজার স্ত্রী ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য ৬ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর অংশের মূল্য ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই সম্পত্তির তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে কুষ্টিয়া শহরের রাহিনী মৌজায় আমির হামজার নিজ নামে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ জমির একটি আবাসিক প্লট থাকার কথাও বলা হয়েছে। ২০১৪ সালে কেনা ওই জমির বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী। তবে হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে এ সম্পত্তির তথ্য নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে দেখানো বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়িভাড়ার আয়, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৯-১৭৫৭ নম্বরের গাড়ি, ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম স্বর্ণ এবং পাঁচতলা ভবন ও জমির মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, গাড়িটির মূল্য হলফনামায় ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে এর তথ্য নেই। একইভাবে আয়কর রিটার্নে ১০ ভরি স্বর্ণের তথ্য থাকলেও নির্বাচনী হলফনামায় তা উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি কি না, তা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬০ টাকা দেখানো হলেও চালকের বেতন, ইউটিলিটি বিল ও সন্তানদের শিক্ষাব্যয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবন ও জমির সম্মিলিত মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৮৩ টাকা দেখানো নিয়েও আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারী। আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে অসংগতি কিংবা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা ও নির্বাচন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মূল দলিল উপস্থাপন করে তদন্তে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবেদনকারী সিরাজুল ইসলাম ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করছি, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী হলফনামায় বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক তথ্যের অসংগতি রয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি একজন আলেম মানুষ। তার কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশা করিনি। এ কারণে আমি অভিযোগ করেছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
- জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না: জামায়াত
- বিপ্লব আপনারা কবে করেছেন, কোন বিপ্লবে ছিলেন: জামায়াতকে রিজভী
- পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে: রাশেদ খাঁন