October 4, 2026, 10:48 am

সামরিক মহড়া চলাকালে উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে একটি মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের তত্ত্বাবধানে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ৩ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

এআই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত একটি মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল শনিবার দেশটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রাখছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের বোন কিম ইয়ো–জং পরে দাবি করেন, সকালে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল একটি ‘মধ্যম পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র’। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি কম উচ্চতায় উড়ার সময় নিজস্ব গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এবং এতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

কিম ইয়ো–জং বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির এ ধরনের সক্ষমতার কারণে এটি প্রতিহত করা কঠিন। তিনি আরও দাবি করেন, কিম জং–উন মনে করেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এ ধরনের প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারবে না।

গত মাসে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছিলেন কিম জং–উন। এর পরই ক্ষেপণাস্ত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে কিম ইয়ো–জংয়ের এ বক্তব্য সামনে এলো।

এর আগে দুই কোরিয়ার সীমান্তের অসামরিকীকৃত এলাকায় (ডিএমজেড) একটি বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনাসদস্য আহত হন। এ ঘটনার জন্য পিয়ংইয়ংকে দায়ী করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল সিউল। তবে উত্তর কোরিয়া ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্যও করে দেশটি।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের পেছনে রাশিয়ার সামরিক সহায়তার ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার জন্য রাশিয়ায় সেনা পাঠানোর বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি ও সহায়তা পাচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।

সিউলভিত্তিক কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিও বলেন, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রও এর বাইরে নয়। তাঁর মতে, এআই লক্ষ্যবস্তুর তথ্য বিশ্লেষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে।

তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি করা নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা কতটা বাস্তব, তা এখনই নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করেন হং সুং-পিও। তাঁর মতে, লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হলেও, এর অর্থ এই নয় যে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা