দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ককপিটে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা করেছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের ককপিটে এ ঘটনা ঘটে। বিমানে ১৭৪ যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১৬৬ জন ইসরায়েলি নাগরিক। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তাধীন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়। পরে ক্রু ও যাত্রীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকল্প ক্রুদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন।
কে এই স্মিত মাচ্ছার
টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ বছর বয়সী স্মিত মাচ্ছার মুম্বাইয়ের ঘাটকোপারের বাসিন্দা। তার ভাইও একজন পাইলট এবং ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত।
বিজনেস টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলের পর তিনি প্রথমে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়েন। ১৯ বছর বয়সে একটি এভিয়েশন সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর বিমান চালানোর প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়।
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে ২০০৭-০৮ সালে পড়াশোনা করেন। পরে নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১৮ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জন করেন। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে এ প্রশিক্ষণ শেষ করেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
ভারতে ফিরে হরিয়ানার মানেসর/গুরগাঁওয়ের এফএসটিসিতে বোয়িং ৭৩৭-এর টাইপ রেটিং সম্পন্ন করেন। পরে স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর কাজ করেন। প্রায় চার বছর ধরে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত।
এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭ উড়ানোর ক্ষেত্রে মাচ্ছারের ১৩ বছরের বেশি বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার মোট ফ্লাইট আওয়ার প্রায় ৯ হাজার ৭৫০।
তার স্ত্রী ও দুই সন্তান দুবাইয়ে থাকেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, তেল আবিবগামী ফ্লাইটটির যাত্রা সম্পন্ন করতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার কারণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তাকারী ক্রু ও যাত্রীদের প্রশংসা করেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।