October 1, 2026, 7:14 am

জিয়াউলের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে

সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার ১৫তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়েছে।

জিয়াউল আহসান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এসব দায়িত্বে থাকাকালে তিনি গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া র‍্যাবে জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কর্মরত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাও সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের সাক্ষ্যে র‍্যাবের বিভিন্ন অভিযানে জিয়াউল আহসানের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বাগেরহাট, সুন্দরবন, বরগুনা ও গাজীপুরে ১০৩ জনকে হত্যার ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে কথিত ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ পদ্ধতিতে মানুষ হত্যার অভিযোগও তদন্তে এসেছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালক আনসার আলী, কমিশনার চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ কয়েকজনকে গুমের ঘটনায়ও জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত চলছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লায় বিএনপির পাঁচ নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার অভিযোগ নিয়েও মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযানসংক্রান্ত মামলাতেও জিয়াউল আহসানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। ওই মামলায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শেষ হলে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হবে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারবে। পরে শুরু হবে যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশনের দাবি, ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে।

তবে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা