October 2, 2026, 8:35 am

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পিওআরভি পরীক্ষা সফল, কমিশনিংয়ে নতুন অগ্রগতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সেফটি ভালভ হিসেবে ব্যবহৃত প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিওআরভি) সমস্যা সমাধানের পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ১৬ মেগাপাসকেল (এমপিএ) উচ্চচাপে এর পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগের রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাটি মেইন কন্ট্রোল রুম (এমসিআর) ও ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম (ইসিআর) উভয় স্থান থেকেই পরিচালনা করা হয়।

পরীক্ষার সময় কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের পাশাপাশি মেইন সেফটি ভালভের (এমএসভি) কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়। ভালভের খোলা-বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, অনুমোদিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগ, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যবস্থা যাচাই করা হয়।

তিনি বলেন, পিওআরভির সফল পরীক্ষা কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থা সরাসরি সম্পৃক্ত।

পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে পরবর্তী পর্যায়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময়সূচি অনিশ্চয়তায় পড়ে। রিঅ্যাক্টরের প্রেসারাইজারে থাকা পিওআরভিতে বারবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়। পরে সমস্যা সমাধানে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে গত ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি রুশ বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে আসে। বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় ভালভের সমস্যা সমাধান করা হয়।

এদিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আসার কথা থাকলেও তা এক দিন পিছিয়ে শুক্রবার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

রোসাটমের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ার সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় নির্মাণাধীন। প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা হলেও সংশোধিত প্রাক্কলনে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা