September 29, 2026, 4:34 pm

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে, আটক ১৬৪

ফ্রান্সে শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন, অতিরিক্ত ক্লাস ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবিতে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবরোধ, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আন্দোলনের আওতায় আসে এবং ১৬৪ জনকে আটক করা হয়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের সাঁ-একজুপেরি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা প্যারিস অঞ্চল ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মী নেই, ভবনগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ এবং অতিরিক্ত ক্লাস ও পড়াশোনার চাপ তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অনেক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় অগ্নিসংযোগ, বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সোমবার পর্যন্ত অন্তত ১৫টি বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনকে ঘিরে ফ্রান্সের সরকার ও কট্টর-বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের (LFI) মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লকুরনু অভিযোগ করেছেন, LFI-এর কয়েকজন নেতা আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বললেও সহিংসতা ও বিদ্যালয়ের আশপাশে বিশৃঙ্খলার বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে LFI নেতা জঁ-লুক মেলেনশো সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কঠোরতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্যের জবাবে সরকার পক্ষ অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে আন্দোলনটি এমন সময়ে জোরালো হয়েছে, যখন ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে ফ্রান্সের সরকার রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। একই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানি নিয়ে মানুষের উদ্বেগও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। মঙ্গলবারের শিক্ষার্থী আন্দোলনের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ ও ধর্মঘটও মিলেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, সরকারি ব্যয়, আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারের নীতির মতো বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতেও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আন্দোলনটি ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা