September 30, 2026, 4:42 pm

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। জনগণের জন্য উপযুক্ত যে প্রক্রিয়া সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কিছু প্রস্তাবের পাশাপাশি ভিন্নমতও রয়েছে। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কোন ধাপ অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে একাধিক বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি জানান, বৈঠকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, বার্তা সংস্থা, সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়। লিখিত প্রস্তাবগুলো সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করবে কমিটি।

বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়াও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত উঠে আসে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। সংসদে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে মতামত এসেছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, কেউ কেউ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়সীমা নির্ধারণ গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে বিএনপি ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেই অবস্থান থেকে দলটি সরে আসেনি।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করতে সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবে কমিটি। জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং এর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক সংশোধনী প্রণয়নের লক্ষ্যেই কমিটি কাজ করছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা