চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) আয়োজিত ‘জাগ্রত জুলাই: কালচারাল ফেস্ট-২০২৬’-এর ফেস্টুনে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
৪ ও ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুর রব হল প্রাঙ্গণে ফেস্টুনটি টাঙানো হয়। ফেস্টুনে লেখা রয়েছে, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে উত্তর গগণে কালো মেঘ জমা হয়েছে। যদি সক্ষমভাবে মোকাবিলা করতে না পারেন, তবে এমন গাঢ় কালো অমাবস্যার রাত আসতে পারে, যার সুবহে সাদিক হওয়া অসম্ভব।’
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করেন, চাকসু শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ না করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। চাইলে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফেস্টুন টাঙানো যেত।’
ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, চাকসু সকল মতের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার কথা। সেখানে সাঈদীর ফেস্টুন থাকা আপত্তিকর। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, সাঈদী বাংলাদেশের আপামর জনগণের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি দাবি করেন, চাকসুর অনুষ্ঠানে সাঈদী, খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের বাণী রাখা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০১৫ সালে আপিল বিভাগ সেই রায় পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। তিনি ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারাবন্দি অবস্থায় মারা যান।