বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ শ্রাবণ গাজীর মা শাহজাহান কান্না জড়িত কণ্ঠে তার ছেলের সঙ্গে শেষ আলাপের কথা স্মরণ করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে ফোনে কথা বলার সময় শ্রাবণ বলেছিল, "মা তুমি ভাত বাড়ো, আমি আসতেছি," কিন্তু এরপর আর জীবিত অবস্থায় ফিরে আসেনি।
শ্রাবণ গাজী ২০২২ সালে সাভার ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এবং পরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে কোটার কারণে তিনি ভর্তি হতে পারেননি। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুল রহমান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য মালয়েশিয়ায় চলে যান।
শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী জানান, তিনি ডেইরি ফার্মে চাকরি করেন এবং দুই সন্তানের মধ্যে শ্রাবণ বড়। শ্রাবণ মালয়েশিয়ায় পড়াশুনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করতেন এবং দেশে ফিরে আসার পর কোটা আন্দোলনে অংশ নেন।
শ্রাবণের মা শাহজাহান বলেন, "৫ আগস্ট সকালে শ্রাবণ ঘুম থেকে উঠে বলেছিল, মা আমি যুদ্ধে যাইতেছি।" পরে দুপুরে ফোনে কথা বলার সময় তিনি শ্রাবণের অবস্থান জানতে চান। শ্রাবণ জানিয়েছিল, "মা আমি ডেইরি গেটে আছি।"
শ্রাবণের বাবা জানান, দুপুরে এক বন্ধু ফোন করে জানায় শ্রাবণ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, হয়তো হাত-পায়ে গুলি লেগেছে, কিন্তু পরে জানতে পারেন, শ্রাবণের মাথায় গুলি লেগেছে। তাকে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি ছেলেকে মৃত অবস্থায় পান।
শ্রাবণের জানাজা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে সাভার ডেইরি ফার্মের কবরস্থানে দাফন করা হয়।