বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত ১৩টি দেশের বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জোট গঠিত হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই জোটের মূল লক্ষ্য নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান এই জোটে নেই।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে এই জোটে যুক্ত হওয়ার ফলে ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনও তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।