সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছে। নবম জাতীয় বেতন কমিশন বা ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে পারে। এরপর এটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে এবং সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগস্টের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল এক ধাপে বা একাধিক ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। গেজেট প্রকাশের পর আর্থিক কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৩ থেকে ধরা হবে। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। কিছু ভাতা একীভূত করা হতে পারে এবং নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত হওয়ার আলোচনা রয়েছে।
অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন কাঠামোতেও পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে একাধিক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ বা এসআরও জারি করতে হবে। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫–সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সচিব কমিটি কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো যাচাই করে চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিসভায় পাঠাবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর প্রতি বছর মূল বেতনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি হলেও নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতনবৃদ্ধির সুপারিশ আসতে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থাকবে, তবে তা তুলনামূলক সীমিত হতে পারে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে। ২০১৫ সালের পর এটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম পূর্ণাঙ্গ নতুন বেতন কাঠামো হতে যাচ্ছে।