October 13, 2026, 7:31 pm

মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহারই সম্ভাবনার চাবিকাঠি

মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মস্তিষ্ক। আর এই মস্তিষ্কের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে—যত বেশি একে ব্যবহার করা হয়, তত বেশি এটি শাণিত ও কার্যকর হয়ে ওঠে। নতুন কিছু শেখা, জটিল সমস্যার সমাধান খোঁজা, কল্পনা করা এবং সৃজনশীল কাজে নিজেকে যুক্ত রাখার মধ্য দিয়েই মস্তিষ্ক তার পূর্ণ দক্ষতা প্রকাশ করে।

অথচ আমরা প্রায়ই অজান্তেই নিজেদের সীমাবদ্ধ করে ফেলি। “এটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়”—এই একটি বাক্যই আমাদের সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ করে দেয়। বাস্তবতা হলো, মানুষের মস্তিষ্ক স্থির কোনো যন্ত্র নয়। এটি প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞান, নতুন অভিজ্ঞতা ও নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে পুনর্গঠন ও বিকশিত করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। বিজ্ঞান একে বলে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’—অর্থাৎ শেখার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কের গঠন ও কর্মক্ষমতা বদলে যাওয়া।

তাই নিজের সম্ভাবনাকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং শেখার ক্ষমতাকে নিয়মিত কাজে লাগাতে হবে। একটি বই পড়া, একটি নতুন দক্ষতা আয়ত্ত করা, একটি সমস্যার ভিন্ন সমাধান ভাবা—এই ছোট ছোট অনুশীলনগুলোই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। আর সক্রিয় মস্তিষ্কই তৈরি করে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও প্রজ্ঞাবান মানুষ।

প্রতিটি নতুন শিক্ষা আসলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। যে শিক্ষার্থী আজ একটি কঠিন অঙ্ক কষে শিখল, সে কাল একটি জটিল বাস্তব সমস্যার সমাধান করবে। যে তরুণ আজ একটি নতুন ভাষা শিখছে, সে কাল বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। যে উদ্যোক্তা আজ একটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে, সে কাল একটি সফল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে।

আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিও নির্ভর করে এই সম্মিলিত মেধা ও সৃজনশীলতার ওপর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কর্মক্ষেত্র—সব জায়গায় যদি আমরা প্রশ্ন করার, ভুল থেকে শেখার এবং নতুন কিছু চেষ্টা করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, তাহলে ব্যক্তির পাশাপাশি জাতিও এগিয়ে যাবে।

শেষ কথা হলো, মস্তিষ্ককে অব্যবহৃত ফেলে রাখলে তা মরচে ধরে। আর ব্যবহার করলে তা হয়ে ওঠে আলোর উৎস। তাই আসুন, নিজেকে ছোট না ভেবে, ভয়কে জয় করে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখি। কারণ আপনার ভেতরের সম্ভাবনাই আগামীর বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।

লেখক—–
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী।

এই বিভাগের আরও খবর


বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন জঙ্গিবাদী দলের। নতুন জঙ্গিবাদী দলটির নাম ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’। তাদের সঙ্গে বিদেশি জঙ্গি দলের যোগাযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটককৃতদের জেরা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’ সম্পর্কে তথ্য লাভের বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “তেজগাঁও হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদী তৎপরতায় সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।” তবে বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ কঠোর হাতে বন্ধ করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে।’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও কলেজের একটি মসজিদ থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদে গোপন বৈঠক করার সময় তাদের আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মসজিদে পুলিশের এই সফল অভিযানের কথা সাংবাদিকদের জানান। আরো পড়ুন গাজীপুর সিটির উন্নয়নে ২৫৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন গাজীপুর সিটির উন্নয়নে ২৫৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন তেজগাঁওয়ের এই জঙ্গিবাদীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফের সামনে এলো বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ। জাতিসংঘের তরফে অবশ্য আগেই আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্কের বিষয়ে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকে সতর্ক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁওয়ের মসজিদটিতে তাদের কথিত বৈঠক চলাকালে আটক করা হয়। অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের সিটিটিসির হেফাজতে নেন। তাদের জেরা করে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে। মৌলবাদীদের ছত্রচ্ছায়ায় বাংলাদেশে বাড়ছে জঙ্গিবাদীদের তৎপরতা। সেই সঙ্গে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে উত্থাত করে দেশকে অস্থির করে তোলার। পর্দার আড়াল থেকে বিদেশি শক্তি ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগাচ্ছে। তেজগাঁওয়ে জঙ্গি গ্রেপ্তারের পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি পিকআপেও অগ্নি সংযোগ করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তার পরের দিন, রবিবারও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। নির্বাচনে পরাজিত শক্তিই বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন। তবে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আরো পড়ুন ‘গুরুদুয়ারা নানক শাহী’ পরিদর্শনে কানাডার প্রতিমন্ত্রী ‘গুরুদুয়ারা নানক শাহী’ পরিদর্শনে কানাডার প্রতিমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ করা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছিলেন, ‘দেশে জঙ্গি রয়েছে এবং জঙ্গি তৎপরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকার কাজ করবে।’ সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিরোধী পক্ষ জঙ্গিবাদীদের মদদ জুগিয়ে চলেছে। তাদের দেশকে অস্থির করে তোলার খেলায় মানুষের নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত বিঘ্নিত হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থেকেই বহু জঙ্গি খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্ত জেল পালানো তিনজন কট্টর জঙ্গি নেতাকে এখনো ধরা যায়নি। পলাতক বন্দিদের মধ্যে ৯ জনের বিরুদ্ধে ছিল একাধিক জঙ্গিবাদের মামলা। অনেকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকারও অভিযোগ ছিল। ইতিমধ্যে তাদের ৬ জনকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজনের কোনো খোঁজ নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজিপ্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন। আরো পড়ুন সৌদিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধি-নিষেধ, ঢাকায় ৯৬৭৪ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত সৌদিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধি-নিষেধ, ঢাকায় ৯৬৭৪ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও অন্তত ২৭ জন জঙ্গি শুধু নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়েছিল বলে জানা যায়। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়েছে খুব কম করে ৬৯০ জন বন্দি। তাদের অনেকেরই এখনো খোঁজ মেলেনি। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী জেল-ছুট জঙ্গিরা মৌলবাদীদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে নতুন নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরিই তাদের লক্ষ্য। গোয়েন্দারা তেজগাঁও থেকে ধৃতদের জেরা করে জানতে পেরেছেন, ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন সংগঠন গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জঙ্গিরা। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর আবারও উগ্রবাদ নিয়ে তাই উদ্বেগ আরো বাড়ছে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখনই পরিস্থিতিকে উগ্রবাদের উত্থান হিসেবে দেখার মতো তথ্য নেই। সম্ভাব্য তৎপরতার ওপর নজরদারি চলছে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ মানুষ অবশ্য এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষপাতী। তাদের মতে, দেশকে উগ্রবাদ মুক্ত করতে হলে অঙ্কুরেই শেষ করতে হবে জঙ্গিবাদকে। বাংলাদেশে বহুদিন ধরেই চলছে জঙ্গিবাদীদের রমরমা। বিদেশের অর্থ ও সহায়তায় ধর্মের নামে তারা বিস্তার করে চলেছে নিজেদের সংগঠন। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনের মতে, বাংলাদেশে উগ্রবাদ নতুন কোনো বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘গত প্রায় দুই বছরে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কতটা কার্যকরভাবে নজরদারিতে ছিল, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ আরো পড়ুন এবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার হবে ভার্চুয়ালি! এবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার হবে ভার্চুয়ালি! বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভেতরেও জঙ্গিবাদীদের জাল বিস্তৃত। চলতি বছরেই চট্টগ্রামের একটি ঘাঁটি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক ওয়ারেন্ট অফিসারের সন্ধান মিলেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এক ডেরায়। এ ঘটনার পরই বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে উগ্রপন্থি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত টিটিপির পক্ষে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীরও সদস্য কাজ করছিলেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীতেও জঙ্গি অনুপ্রবেশ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য খুবই বিপজ্জনক। তেমনই বিপজ্জনক ছোট ছোট শিশুদের মনে মাদরাসার মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বীজবপনও। এটা প্রতিহত করতেই হবে। এর জন্য চাই আরো কঠোর নজরদারি।

ফেসবুকে আমরা