July 5, 2026, 2:41 pm

খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক প্রকল্পে বন বিভাগের আপত্তি, স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে

খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক প্রকল্পে বন বিভাগের আপত্তি, স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে

কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী থেকে রামুর ঈদগড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বন বিভাগের আপত্তির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে চকরিয়া, রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামাসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের যোগাযোগ দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। প্রকল্পের দুটি প্যাকেজে ইতোমধ্যে ১৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, কিন্তু বন বিভাগের আপত্তির কারণে মাঝপথের কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, জাইকার অর্থায়নে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খুটাখালী থেকে ঈদগড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। বর্তমানে খুটাখালী বাজার থেকে মধুশিয়া এবং ঈদগড় থেকে কালাপাড়া পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু মধুশিয়া বনের মধ্য দিয়ে ৫ কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু হয়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বন বিভাগের আপত্তির কারণে তারা ২০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। মধুশিয়া এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলন চলছে, যা বন বিভাগের লাল পতাকা থাকা সত্ত্বেও চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন বিভাগের দাবি অনুযায়ী পাঁচ কিলোমিটার সংরক্ষিত বনের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ মিটার গর্জন বন রয়েছে, বাকি অংশ পুরোনো সড়ক ও কৃষিজমি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী লিটন বলেন, "এটি ব্রিটিশ আমলের রাস্তা। এখানে আগে থেকেই একটি সেতু ও তিনটি কালভার্ট রয়েছে।" কৃষক কামাল উদ্দিন জানান, সড়ক না থাকায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লামার ফাঁসিয়াখালীর বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, "যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালে যেতে সমস্যা হচ্ছে।" এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল আলম জানান, প্রকল্পের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু বন বিভাগের আপত্তির অংশে নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা