October 12, 2026, 11:21 pm

এআইয়ের বিনিয়োগে বাড়ছে প্রবৃদ্ধি, ঝুঁকিতে ৪০ শতাংশ চাকরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এশিয়ার অর্থনীতিতেও বাড়ছে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরির ধরন বদলে যেতে পারে, এমনকি কিছু চাকরি বিলুপ্ত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসা ‘সুনামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকের প্রথম দিনে সোমবার তিনি বলেন, এআই পছন্দ হোক বা না হোক, প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যে মানুষের কর্মজীবন ও দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করেছে। এ সপ্তাহের বৈঠকে প্রায় ১৮ হাজার অংশগ্রহণকারীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

জর্জিয়েভার মতে, এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ অর্থনীতিতে চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর ফলে এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহের সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য চাপ তৈরি করছে।

তিনি জানান, এআইয়ের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরির কাজের ধরন বা পদ্ধতি পরিবর্তিত হতে পারে। উন্নত অর্থনীতিগুলোতে এ প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ৬০ শতাংশ চাকরিতে। কিছু কাজের গুরুত্ব কমবে, আবার কিছু চাকরি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এআইয়ের প্রভাব শুধু কর্মসংস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারের কর আদায়ের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমের তুলনায় পুঁজির গুরুত্ব বাড়তে পারে। অর্থাৎ মানুষের শ্রমের পরিবর্তে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ১০ শতাংশ চাকরিতে ইতিমধ্যে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতার প্রয়োজন হচ্ছে। নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের সুযোগ কমলেও নির্মাণশিল্প ও তথ্যকেন্দ্রের মতো খাতে কর্মসংস্থান বাড়ছে। তবে এসব খাতের অনেক চাকরিতে তুলনামূলক কম বেতন দেওয়া হয়।

এআইয়ের কারণে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রথম চাকরি পাওয়ার সুযোগ কমে আসছে। বিষয়টি সরকারগুলোর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

থারমানের আশঙ্কা, এআইয়ের সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তাই প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন ও উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআইয়ে ভিন্ন সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। তাঁর মতে, বড় আকারের এআই মডেল তৈরির কাজ মূলত উন্নত অর্থনীতিগুলোতে হওয়ায় সেখানে পরিবর্তনের প্রভাবও বেশি পড়তে পারে।

বাঙ্গা জানান, বিশ্বব্যাংক বড় মডেল তৈরির পরিবর্তে তুলনামূলক ছোট ও কম কম্পিউটিং ক্ষমতানির্ভর এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগের মূল বিষয় হলো, এআই বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ালেও এর সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে কি না। প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান রক্ষা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরিতে সরকারগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা