নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে মাদক মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, মাদক ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) টহল বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ১২৫টি নতুন থানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানকার বাসিন্দারা অমানবিক জীবনযাপন করছেন। ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। মাদক বিক্রির হটস্পট হিসেবে পরিচিত এই ক্যাম্পের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সমাজে সংঘটিত অনেক গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মাদকের কারণে পারিবারিক কলহ, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সাইবার অপরাধ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঘটনা বাড়ছে।
তিনি বলেন, মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক শহর থেকে গ্রামগঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার করলেও ঘরে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, মাদক কারবারিরা ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে অপরাধ চালিয়ে যায়। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা, গবেষণা, রোবটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন বেশি কার্যকর’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজকে পরাজিত করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক জামিউল আহসান সিপু, নাদিয়া শারমিন, মো. আতিকুর রহমান ও মিরাজ মাহবুব ইফতি। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের বিতার্কিকদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।